Tuesday, January 24, 2012

প্রথমে পা

বৃষ্টিঝরা রাতে আকাশ জুড়ে বিদ্যুৎপর্ণা
আগুন জ্বলছে নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে-
স্পর্শ স্নিগদ্ধতা পাগলপারা ঝর্ণা
আমাদের হৃদয়ের মৌন আবেশে,
আজ সারা রাত বৃষ্টি ভিজেছে স্বপ্ন
তোমার আজ আগুন পাখী হবার ইচ্ছে-
রক্ত ছুট্‌ছে শিরায় শিরায় অবিরাম
আমার বোধন তোমার হাতেই সাজছে।
শরীর জুড়ে শাওন বিন্দুর কোলাহল-
বন্যা আসবে অন্তরাত্মার অন্দরমহলে
ভিজবে উর্বর সৃষ্টির আনন্দ,
আমার শরীর জুড়ে ঘুম নামবে অবহেলে,
উন্মত্ত পৃথিবী শৃঙ্গরাজি আরও উঁচু হবে-
বানভাসি হবে সৃষ্টির নটরাজ।
সেখানে আরও অনেক স্বপ্ন জমা আছে
তার প্রথমটার হোক্‌ না শুরু আজ।।

জীবণ

জীবণ চেয়েছে কখনো উড়ন্ত পাখীর
বুকের খাঁচার বাতাস-
কখনো চেয়েছে হতে বৃষ্টি দানার
স্বচ্ছতার নরম আশ্বাস-
জলের অধিকারে জীবণ হাতড়েছে পৃথিবীর মাটি
অভ্যন্তরে মেলেনি জল,মিলেছে ম্যগমা পরিপাটি।।

আঁচড়ের দাগ হয়ত অদৃশ্য হয়েছে সাময়িক
সময়ের নগ্ন শরীরে-
হৃদি তন্ত্রীর অস্থির অনুরনণে উত্তাল
বর্তমানের ক্ষত গভীরে-

আরো গভীরে জীবণ খুঁজে চলেছে
অবিরাম পায়ের তলার মাটি-
মেলেনি কিছুই - ব্যতিক্রম নয় এবারও
জল নয়,মিলেছে ম্যাগমা পরিপাটি।।

ওপরেও জ্বলছে আগুন দাউ দাউ করে
কুশ পুতুলের সারি জ্বলছে অক্লেশে-
কে জানে - জীবণ জ্বালানি গুলোই
হয়ত রেখেছে ঢেকে মানবছদ্ম-বেশে...
জলের অধিকারে জীবণ হাতড়েছে পৃথিবীর মাটি
অভ্যন্তরে মেলেনি জল মিলেছে ম্যগমা পরিপাটি।।

উতল মন

ছলাৎ ছলাৎ উতল মনে
পরাণ মাঝি বৈঠা টানে -
মাঝ নদীতে উজোন বেয়ে
সুজন খুঁজে যায়।

তোর মুখতো তারার মতো
মিটমিটিয়ে হাসে কত
ইচ্ছে হলেই ধরা কি তা যায়?

মাঝ নদীতে ডিঙির দোলে
ওস্‌ মোড়ানো গামছা খুলে
তোর হলুদ গন্ধ হাওয়ায় ভেসে যায়...

এখন কি তুই উঠোন ছেড়ে
কুপির আলোয় আলো ঘরে
হাঁটুর ওপর মুখটা রেখে
আছিস অপেক্ষায়...

চোখের ওপর কাজল টানা-
উতলে ওঠা মুক্ত দানা
ভোরের আগে বৃষ্টি হয়ে যায়...

জানি তুই হেঁসেল ঘরে
ধোঁয়ার ছলে দুচোখ ভ'রে
থাকবি চেয়ে আমার পথে ঠায়...

আজকে কিবা অন্য ভোরে
সুখ নেকানো ছোট্ট ঘরে
আশেই ফেরা আকুল নিশানায়।।

কতবার এমন করে ভাসাবে আমায়

দীর্ঘশ্বাস যেমন এপারে আছে
তেমনটা ওপারেও-
শুধু তফাৎ- এপারেরটা শুধুই আমার
ওপারেরটা তোমার আর আমারও।।

দুটো দিকেই সময় কাটে
যেমন শামুক হাঁটে-
দুটো দিকেই দিনের আলো নিবে এলে
মনে মনে চোখ থেমে যায়
হঠাৎ, মাপা কলিং বেলে।
একলা হু হু বারান্দায়-
অথবা নিঃস্ব চিলেকোঠায়
কতবার এমন করে ভাসাবে আমায়।।

পাশ ফিরেছে সন্ধ্যাতারা,
বাউন্ডুলে ঘড়ির কাঁটা-
ওস্‌ নেমেছে মনের কোণায়
অন্তহীনে কাঁদছে সময় ভালবাসায়...
কতবার এমন করে ভাসাবে আমায়।।

বাকি আছে অনেক কিছুই...

বাকি আছে অনেক কিছুই
শিশিরে স্নান,
বিজয়ায় আগমনী গান-
দ্বিতীয় শৈশবের বিকেল-
জীবণের হঠাৎ কোনও বাঁকে
ভানুমতির খেল্-
সব কিছুর মাঝে থাক না অবকাশ
থাক না তোমার আমার মাঝে এক টুকরো আকাশ।।

পাওয়া না পাওয়ার মাঝে
জীবণ বেঁচে থাকে-
আশা তাকে বাঁচিয়ে রাখে,
আগ্‌লে রাখে চোরা খাঁজে
প্রাণের পরশ পাথর
চরম সংকটের সাঁঝে-
সব কিছুর মাঝে থাক না অবকাশ
থাক্‌ না তোমার আমার মাঝে এক টুকরো আকাশ।।

নিষেধ না মানা পাখীর
শেকল ছেঁড়ার গান-
বুকের মাঝে লুকিয়ে আছে
স্বপ্ন পাওয়া প্রাণ-
গলার স্বর চড়ায় তুলে
না-ই বা বলল তুমি আমার ডাকনাম-
সব কিছুর মাঝে থাক না অবকাশ
থাক্‌ না তোমার আমার মাঝে এক টুকরো আকাশ।।

নিত্যসুখে তৃপ্ত বাতাস
না-ই বা দিল তোমার দাম,
ভুলেই না হয় গেল তোমার নাম-
সময় নদীর স্রোতে
ভেসে যায় যাক না স্মৃতি
ঋদ্ধ রাতে তোমার সাথে-
সব কিছুর মাঝে থাক না অবকাশ
থাক্‌ না তোমার আমাতসর মাঝে এক টুকরো আকাশ।।

অকাল বৃষ্টি শীতের রাতে,
বর্ষার আকাশ একটা মেঘের অপেক্ষাতে-
অনেক কিছুই দেখার বাকি -
অনেকটা পথ চলতে হবে-
বিশ্বটাকে হাতের মুঠোয় ধরতে হবে-
শুধু যা নিজেকেই ধরার বাকি!
সব কিছুর মাঝে থাক না অবকাশ
থাক্‌ না তোমার আমার মাঝে এক টুকরো আকাশ।।

Monday, January 23, 2012

দোয়েল পাখী

ছোট্ট একটা দোয়েল পাখী বসন্তের শেষ বেলায়
আকাশ ভরা হৃদয় নিয়ে পদ্য লিখে যায়-
সেই পদ্যয় সুর খুঁজে দেয় নতুন কোনও নীড়
শেষ বিকেলের অস্তরাগে তাই স্বপ্ন রঙের ভিড়।।

বুকের ভিতর ছন্দ চলার সুরের ভিতর প্রাণ
উতল সুরের সেই সীমানায় মনের অভিজান,
সুরের সাগর পার হয়ে যায় দোয়েল দু ডানায়
হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে যা মন অচিন ঠিকানায়-

আয় ছুতে আয় এ মন জুড়ে দোয়েলটুকু আশা
ভুল করে মন ভুলিস না তোর দোয়েল অভিলাষা-
ইচ্ছেগুলোয় রঙ ভরে দেয় দোয়েল দু ডানায়
চোখের ওপর জল ছবি মন সুখের কান্নায়।।

আঁকিবুঁকি ১

সেই হৃদিস্রোতা ঝিলমিল
মনের ছায়ায় আবিল
খোলা জানালার উতল হাওয়ায়
অপেক্ষার জ্যোৎস্নায় সামিল।।