Tuesday, October 30, 2018

আশা

তোর কাছে রাখা আছে কিছু সাদা পাতা আর রঙ
আঁকিস মানব ছবি গুলে দিস তাতে কিছু মন।
মেঘ জমা ভেজা চোখে যদি ধুয়ে যায় সেই ঘোর
আবার আঁকিস ছবি মুছে দিস সে চোখের কোন।

ফুল হয়ে দিস ভরে রাইফেলে গুলির ঘর,
সৌরভ ঢেলে দিস মলিন এ প্রাণের ওপর,
বিশ্বাস হীন এ পৃথিবীর বুকে জাগে রাত
বিশ্বাসী ভোর নিশ্বাসে খোঁজে তোর হাত।
সে হাতের স্পর্শে সোনা রঙ হোক অনুক্ষণ
আঁকিস মানব ছবি গুলে দিস তাতে কিছু মন।

রাস্তায় ঘুম ঘোরে যে ছেলেটা খুঁজে ফেরে মাকে,
যে মেয়েটা অস্ফুটে ঝরে যাওয়া ফুল হয়ে কাঁদে,
যে রাত দেয় নি ভাষা শিশিরের মুখে
সে রাতের পরে ভোর যেন হাসে সুখে।।
রোজ ভোরে এ স্বপ্ন মেখে থাকে মনের কোন
আঁকিস মানব ছবি গুলে দিস তাতে কিছু মন।

আলোর ব্যালকনি

অন্ধকার এ ঘরের পর সে আলোর ব্যালকনি
বন্ধ শ্বাস আজ খোলা হাওয়ায় স্বপ্ন সন্ধানী।
ছেঁড়া ছেঁড়া ছবি সময়ের স্রোতে আজও ভাসেনি
মেঘ ছুঁয়ে কথা বৃষ্টি হওয়ার হাতে সময় রাখে নি।।

আজ বৃষ্টি হয় অঝোরে চেতনার মন পথে,
তাই বাস্প হয় স্মৃতিরা মনচোরা শারসিতে,
কল্পনার বন্দরে তীর ভাঙা ঢেউ  গুনে
জেগে আছে বাতিঘর অ শান্ত  জীবণে।
অসময় ক্লান্তিতে সময়ের হাতছানি
অন্ধকার এ ঘরের পর সেই আলোর ব্যালকনি।।

শূন্যতার এ মগ্নতায় একা মন  বিষণ্ণ সরণী
ব্যস্ততার ভিড়ে মন এখনো মানুষ চেনে নি।
তাই দুর্নিবার আহ্বানে গলা মেলাই একমনে
      ভিন্নতার একতার স্বপ্ন দেখি আনমনে।
মনে হয় জীবণের কাছে হয়ে থাকি আরো ঋণী 
অন্ধকার এ ঘরের পরই জানি আছে
                                   আলোর ব্যালকনি।।

হৃদিস্রোতা

হৃদিস্রোতা হৃদিস্রোতা হৃদয় জুড়ে ঢেউ,
এঘর ওঘর ছুটে বেড়ায় স্বপ্নের মতো কেউ।

বৃষ্টি ভেজা মেঘলা মনে সূর্যতোয়া ভোর
এনে দিল অকাল শ্রাবণ বুকে খুশির তোড়।
ইচ্ছেটারই জন্ম দ্যাখে বিমুগ্ধতার ঢেউ
ভেজা চোখে হৃদিস্রোতা বাক্যিহারা কেউ।

ভীষণ চেনা তবু অচেনা গোলাপ রঙা মুখ
হারিয়ে পাওয়ার তৃপ্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুখ।
আমার হাসি অলক্ষ্যেতে দেখছে দূরে কেউ
পূর্ণতারই স্বপ্ন দেখা স্বপ্নের মতো কেউ।

ছোট্ট পায়ে দাপিয়ে বেড়ায় হৃদয়ের এক নাম
খিল খিলিয়ে চলকে পড়ে আমার ডাক নাম।
এমন খুশির শ্রাবণ স্রোতে ভাসিয়ে নেওয়া ঢেউ
সে যে আমার বুক জোড়ানো স্বপ্নের মতো কেউ।।

Tuesday, January 24, 2012

প্রথমে পা

বৃষ্টিঝরা রাতে আকাশ জুড়ে বিদ্যুৎপর্ণা
আগুন জ্বলছে নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে-
স্পর্শ স্নিগদ্ধতা পাগলপারা ঝর্ণা
আমাদের হৃদয়ের মৌন আবেশে,
আজ সারা রাত বৃষ্টি ভিজেছে স্বপ্ন
তোমার আজ আগুন পাখী হবার ইচ্ছে-
রক্ত ছুট্‌ছে শিরায় শিরায় অবিরাম
আমার বোধন তোমার হাতেই সাজছে।
শরীর জুড়ে শাওন বিন্দুর কোলাহল-
বন্যা আসবে অন্তরাত্মার অন্দরমহলে
ভিজবে উর্বর সৃষ্টির আনন্দ,
আমার শরীর জুড়ে ঘুম নামবে অবহেলে,
উন্মত্ত পৃথিবী শৃঙ্গরাজি আরও উঁচু হবে-
বানভাসি হবে সৃষ্টির নটরাজ।
সেখানে আরও অনেক স্বপ্ন জমা আছে
তার প্রথমটার হোক্‌ না শুরু আজ।।

জীবণ

জীবণ চেয়েছে কখনো উড়ন্ত পাখীর
বুকের খাঁচার বাতাস-
কখনো চেয়েছে হতে বৃষ্টি দানার
স্বচ্ছতার নরম আশ্বাস-
জলের অধিকারে জীবণ হাতড়েছে পৃথিবীর মাটি
অভ্যন্তরে মেলেনি জল,মিলেছে ম্যগমা পরিপাটি।।

আঁচড়ের দাগ হয়ত অদৃশ্য হয়েছে সাময়িক
সময়ের নগ্ন শরীরে-
হৃদি তন্ত্রীর অস্থির অনুরনণে উত্তাল
বর্তমানের ক্ষত গভীরে-

আরো গভীরে জীবণ খুঁজে চলেছে
অবিরাম পায়ের তলার মাটি-
মেলেনি কিছুই - ব্যতিক্রম নয় এবারও
জল নয়,মিলেছে ম্যাগমা পরিপাটি।।

ওপরেও জ্বলছে আগুন দাউ দাউ করে
কুশ পুতুলের সারি জ্বলছে অক্লেশে-
কে জানে - জীবণ জ্বালানি গুলোই
হয়ত রেখেছে ঢেকে মানবছদ্ম-বেশে...
জলের অধিকারে জীবণ হাতড়েছে পৃথিবীর মাটি
অভ্যন্তরে মেলেনি জল মিলেছে ম্যগমা পরিপাটি।।

উতল মন

ছলাৎ ছলাৎ উতল মনে
পরাণ মাঝি বৈঠা টানে -
মাঝ নদীতে উজোন বেয়ে
সুজন খুঁজে যায়।

তোর মুখতো তারার মতো
মিটমিটিয়ে হাসে কত
ইচ্ছে হলেই ধরা কি তা যায়?

মাঝ নদীতে ডিঙির দোলে
ওস্‌ মোড়ানো গামছা খুলে
তোর হলুদ গন্ধ হাওয়ায় ভেসে যায়...

এখন কি তুই উঠোন ছেড়ে
কুপির আলোয় আলো ঘরে
হাঁটুর ওপর মুখটা রেখে
আছিস অপেক্ষায়...

চোখের ওপর কাজল টানা-
উতলে ওঠা মুক্ত দানা
ভোরের আগে বৃষ্টি হয়ে যায়...

জানি তুই হেঁসেল ঘরে
ধোঁয়ার ছলে দুচোখ ভ'রে
থাকবি চেয়ে আমার পথে ঠায়...

আজকে কিবা অন্য ভোরে
সুখ নেকানো ছোট্ট ঘরে
আশেই ফেরা আকুল নিশানায়।।

কতবার এমন করে ভাসাবে আমায়

দীর্ঘশ্বাস যেমন এপারে আছে
তেমনটা ওপারেও-
শুধু তফাৎ- এপারেরটা শুধুই আমার
ওপারেরটা তোমার আর আমারও।।

দুটো দিকেই সময় কাটে
যেমন শামুক হাঁটে-
দুটো দিকেই দিনের আলো নিবে এলে
মনে মনে চোখ থেমে যায়
হঠাৎ, মাপা কলিং বেলে।
একলা হু হু বারান্দায়-
অথবা নিঃস্ব চিলেকোঠায়
কতবার এমন করে ভাসাবে আমায়।।

পাশ ফিরেছে সন্ধ্যাতারা,
বাউন্ডুলে ঘড়ির কাঁটা-
ওস্‌ নেমেছে মনের কোণায়
অন্তহীনে কাঁদছে সময় ভালবাসায়...
কতবার এমন করে ভাসাবে আমায়।।